‘যে কোনও চরিত্রের জন্য প্রচণ্ড পরিশ্রম করতেন’, উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন

Spread the love

১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বরে জন্ম অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়ের। পরবর্তীকালে যিনি উত্তমকুমার নামেই আপামর বাঙালির হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন। তাঁর জন্মশতবর্ষের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানালেন।

আগামী ৩ সেপ্টেম্বর বাংলা চলচ্চিত্রজগতের ‘চিরসবুজ’ নায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ। তার আগে, ৩০ অগস্ট, ‘মন কী বাত’ অনুষ্ঠানের ১৩৭তম পর্বে প্রয়াত অভিনেতার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

এ দিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কিছু দিনের মধ্যেই, আগামী ৩ সেপ্টেম্বর, আমরা মহানায়ক উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষ পালন করব। এমন এক জন বহুমুখী প্রতিভা, তাঁর দুর্দান্ত অভিনয় দিয়ে মানুষের মন জয় করেছিলেন এবং মানুষের হৃদয়ে চিরন্তন ছাপ ফেলেছিলেন।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে উত্তমকুমারের সঙ্গে পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের সম্পর্কও। তিনি বলেন, “উত্তমকুমারজি তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে বহু মানুষের মন জয় করেছেন। সিনেপ্রেমীরা বিশ্বাস করেন যে সত্যজিৎ রায় ‘নায়ক’ ছবির পুরো চিত্রনাট্যটা উত্তমকুমারকে মাথায় রেখেই লিখেছিলেন। সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন যে, ‘ওঁর মধ্যে সম্ভ্রমের সঙ্গে সঙ্গে গভীর আবেগ ছিল। যে কোনও চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলতে প্রচণ্ড পরিশ্রম করতেন তিনি।’ উত্তমকুমার সমাজসেবামূলক কাজের জন্যও পরিচিত। ওঁর জীবন থেকে হার না মানার শিক্ষাও পাওয়া যায়। এই কারণেই নিজে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছোতে পেরেছিলেন।” নিঃসন্দেহে উত্তম কুমার অভিনীত ‘নায়ক’ ছবি অভিনেতার সবচেয়ে আলোচিত ও প্রশংসিত কাজের অন্যতম।

কিছু দিন আগে কলকাতায় পথসভা করার সময়ে উত্তমকুমারের বাড়ির সামনে দিয়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সেই সময়ে তিনি উত্তমকুমারের একটি প্রতিকৃতিও উপহার পান। জন্মশতবর্ষে অভিনেতার প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে মোদী বাংলায় বলেন, “উত্তমকুমার চিরদিন মানুষের হৃদয়ে রাজ করবেন।”

১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বরে জন্ম অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়ের। পরবর্তীকালে যিনি উত্তমকুমার নামেই আপামর বাঙালির হৃদয়ে রাজত্ব শুরু করেন। তিন দশকের বেশি কর্মজীবনে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি পরিচালক, প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার হিসাবেও দায়িত্ব সামলেছেন। একের পর এক জনপ্রিয় ছবিতে নজর কেড়েছেন তিনি। ‘হারানো সুর’, ‘সপ্তপদী’, ‘সাড়ে চুয়াত্তর’, ‘চিড়িয়াখানা’, ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’— তাঁর কাজের তালিকা সহজে শেষ হওয়ার নয়। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই প্রয়াত হন উত্তমকুমার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *