নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করার জন্য প্রথমে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিল আদালত। পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ অগস্ট করা হয়। এ বার সেই সময়সীমা আরও আট মাস বৃদ্ধির আর্জি জানানো হচ্ছে।।
২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের জন্য আরও সময় চায় রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের বর্ধিত সময়সীমা শেষ হচ্ছে সোমবার। তবে কমিশনের বক্তব্য, ওই পরীক্ষা নিয়ে বিষয়ভিত্তিক বহু অভিযোগ জমা পড়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ অবস্থায় নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করতে আরও আট মাস সময় চায় তারা। কমিশন চায়, আগামী বছরের ৩১ মে পর্যন্ত সময় দেওয়া হোক। সোমবারই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং সচিন সচদেবার এজলাসে শুনানির জন্য উঠবে কমিশনের আর্জি।
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যে এসএসসি-র নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। দুর্নীতির কারণে ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। নতুন করে আবার নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছিল আদালত। কোর্টের নির্দেশ মতো গত বছরের সেপ্টেম্বরে শিক্ষক নিয়োগের জন্য নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হয়। মোট ৪৪টি বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। কমিশন জানাচ্ছে, পরীক্ষার ‘অ্যানসার কি’-র ভিত্তিতে প্রচুর অভিযোগ জমা পড়েছে। বিষয়ভিত্তিক অভিযোগ জমা হয়েছে ১ লক্ষ ২৯ হাজার। সেগুলি খতিয়ে দেখতে একটি রিভিউ কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখার জন্য সময় প্রয়োজন বলে জানাচ্ছে কমিশন। তারা আরও জানাচ্ছে, ৫ লক্ষেরও বেশি ওএমআর স্ক্যান করার ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল। সেগুলি তিন বার করে স্ক্যান করতে হয়েছে।
পাশাপাশি আরও বেশ কিছু কারণে নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করতে সময় প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন। তাদের বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে যাঁরা কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং পাঁচ জ়োনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন, তাঁরা ভোট পরবর্তী সময়ে পদত্যাগ করেছেন। এর ফলেও নিয়োগপ্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়েছে বলে মনে করছে কমিশন। পাশাপাশি ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে পূর্বতন সরকারের নীতি এবং বর্তমান সরকারের নীতিগত অবস্থানও অন্যতম কারণ বলে জানাচ্ছে কমিশন। এসএসসির বক্তব্য, আগের সরকারের নীতি অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে কী করণীয় তা রাজ্যের কাছ থেকে জানতে চেয়েছে তারা।
আবার তৃণমূল সরকারের আমলে নতুন নিয়মে জারি হওয়া সমস্ত ওবিসি শংসাপত্রই সম্প্রতি বাতিল করে দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বেঞ্চ জানিয়েছে, ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি বিভাজন এখন আর নেই। তাই এই ধরনের শংসাপত্রগুলির আর বৈধতা নেই। যাঁদের এই শংসাপত্র রয়েছে, তাঁরা এখন থেকে ‘সাধারণ শ্রেণি’ (জেনারেল ক্যাটেগরি) হিসেবেই বিবেচিত হবেন। ওবিসি শংসাপত্র সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতের নির্দেশের পর কী করণীয়, তা স্থির করতেও আরও সময় প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন।
প্রাথমিক ভাবে, এই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য এসএসসি-কে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার কিছু আগেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কমিশন। সময় চেয়েছিল আদালতের কাছে। তখন এসএসসির আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩১ অগস্ট পর্যন্ত সময় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার সেই সময়সীমা ফুরোচ্ছে। এ অবস্থায় নিয়োগের জন্য আরও সময় চেয়ে আদালতে যাচ্ছে কমিশন।
গত বছরে যে নিয়োগের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল, তাতে নবম-দশমের জন্য ২ লক্ষ ৯৩ হাজার এবং একাদশ-দ্বাদশের জন্য ২ লক্ষ ২৯ হাজার পরীক্ষার্থী ছিলেন। কমিশন জানাচ্ছে, একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্যানেল চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। সে ক্ষেত্রে ৩৩টি বিষয়ের মধ্যে ২১টির কাউন্সেলিং শেষ হয়ে গিয়েছে। এসএসসি-র তরফে ৩৫৮৬ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে পর্ষদকে। অন্য দিকে নবম-দশমেরও ইন্টারভিউ তালিকা তৈরি হয়ে গিয়েছে।
বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, “আমরা চাই দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ হোক। ইতিমধ্যে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করে যোগ্যরা যাতে চাকরি পান, তা নিশ্চিত করা হোক।”