ভূরি ভূরি বিয়ের প্রস্তাব, এ বার কি সাত পাকে বাঁধা পড়বেন ককরোচদের নেতা অভিজিৎ? মুখ খুললেন তাঁর মা

Spread the love

গত দু’বছর ধরেই অভিজিতের জন্য ভূরি ভূরি বিয়ের প্রস্তাব আসছে। আত্মীয়-স্বজনদেরও উৎসাহের অন্ত নেই.

তিনি এখন নায়ক। গোটা দেশ একডাকে চেনে। তিনি ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর আন্দোলনের সামনে পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছে দোর্দন্ডপ্রতাপ কেন্দ্রীয় সরকারও। কম কথা নয় মোটেই। এ বার কি বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন তিনি? সংসারী হবেন? অবশেষে এই নিয়ে মুখ খুললেন তাঁর মা অনীতা দিপকে।

এক নজরে

  • কে? ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
  • বিয়ে নিয়ে কী বললেন? আপাতত বিয়ে নয়, আগে পড়াশোনা শেষ করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চান।
  • মায়ের বক্তব্য? গত দু’বছর ধরে অনেক বিয়ের প্রস্তাব আসছে, কিন্তু ছেলে এখনই বিয়ে করতে রাজি নন।
  • বর্তমানে কী করছেন? নিট-প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং প্রয়োজনে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
  • সিজেপির দাবি কী? গ্রেপ্তার আন্দোলনকারীদের মুক্তি, সব মামলা প্রত্যাহার এবং নতুন এফআইআর না করার লিখিত আশ্বাস।

গত দু’বছর ধরেই অভিজিতের জন্য ভূরি ভূরি বিয়ের প্রস্তাব আসছে। আত্মীয়-স্বজনদেরও উৎসাহের অন্ত নেই। কিন্তু অভিজিৎ ঘাড় পাতছেন না মোটেই। তিনি নাকি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগে পড়াশোনা শেষ করে চাকরি-বাকরি করবেন, তার পরে বিয়ে। এমনটাই জানালেন তাঁর মা। অভিজিৎ এখন আমেরিকার বস্টন ইউনিভার্সিটিতে পাবলিক রিলেশনস নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তাঁর মা অনীতার কথায়, ‘বিয়ের প্রস্তাব তো অনেক আসছে, গত দু’বছর ধরেই আসছে। তবে ও বলেছে, পড়াশোনা শেষ করে আগে নিজের পায়ে দাঁড়াব, তার পরে বিয়ে।’ নিটপ্রশ্নফাঁস আন্দোলনের পরে কি সম্বন্ধ বেশি আসছে? সেই নিয়ে অবশ্য মুখ খোলেননি তিনি।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনের মাঝেই টাইফয়েডে আক্রান্ত হন অভিজিৎ। অবশ্য তার মধ্যেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার খবর সামনে আসে। ওই অবস্থাতেই ধর্না মঞ্চে ছুটে যান। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ফেটে পড়েন উল্লাসে। এখন অবশ্য ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন তিনি। পুলিশি পদক্ষেপের অভিযোগ তুলে সিজেপি-র আন্দোলনের নেতৃত্বও দিচ্ছেন সমানতালে। প্রয়োজনে আবারও রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। সোজাসুজি বলেছেন, ‘ছাত্রদের উপরে হেনস্থা চলতে থাকলে ককরোচ জনতা পার্টি আবার আন্দোলনে নামবে।’

গত শনিবার ৩৬ দিনের আন্দোলন স্থগিত রাখার ঘোষণা করে সিজেপি। তাদের দাবি ছিল, কেন্দ্র তাদের তিনটি শর্তই মেনে নিয়েছে—আন্দোলনকারীদের উপর থেকে এফআইআর প্রত্যাহার, ধৃতদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা না নেওয়া এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। কিন্তু সোমবার ফের সুর চড়ায় তারা। ধৃত আন্দোলনকারীদের মুক্তি, সব মামলা প্রত্যাহার এবং নতুন করে কোনও এফআইআর না করার লিখিত আশ্বাস চেয়ে কেন্দ্রকে আলটিমেটাম দেয় সিজেপি।

মঙ্গলবার আরও এক ধাপ এগিয়ে তারা অভিযোগ করে, সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশকে অজুহাত করে কেন্দ্র প্রতিশ্রুতি এড়াতে চাইছে। তাই প্রয়োজনে শুধু দিল্লি নয়, গোটা দেশেই নতুন করে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। রাজনীতির মঞ্চে আপাতত আন্দোলনই অভিজিতের একমাত্র অগ্রাধিকার। তাই বাড়িতে বিয়ের আলোচনা উঠলেই যেন একটাই উত্তর—‘আগে পড়াশোনা, তারপর রোজগার, তার পরে সাতপাক।’ ফলে আপাতত মালাবদলের চেয়ে আন্দোলনের ব্যানারই তাঁর সঙ্গী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *