Dharmendra Pradhan-এর ইস্তফার প্রশ্নে যুক্তি-পাল্টা যুক্তির দড়ি টানাটানি

NEET-UG প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে টানা আন্দোলনের মধ্যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনড় ছিল CJP। শত দর কষাকষিতেও এই ইস্যু থেকে একচুল নড়তে রাজি ছিল না আন্দোলনকারীরা। কেন্দ্রের তরফে মুখোমুখি সাক্ষাতেও এই বিষয়টি নিয়ে CJP প্রতিনিধিদের বোঝানো হয়। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। সংগঠনের অবস্থান ছিল স্পষ্ট—ধর্মেন্দ্র প্রধানের মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের বিকল্প নেই।
‘বদলি নয়, চাই ইস্তফা’
সূত্রের খবর, কেন্দ্র সরকার প্রথমে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শুধু শিক্ষা মন্ত্রক থেকে সরিয়ে অন্য কোনও মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী সরকারি সূত্রের দাবি, মধ্যরাত পর্যন্ত চলা বৈঠকে সরকারের তরফে একটি সমঝোতার পথ খোঁজা হয়েছিল। সেখানে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শিক্ষা মন্ত্রক থেকে সরিয়ে অন্য কোনও মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সরকারের ধারণা ছিল, এতে একদিকে আন্দোলনের চাপ কিছুটা কমবে, অন্যদিকে মন্ত্রিসভায় তাঁর অভিজ্ঞতাও কাজে লাগানো যাবে। কিন্তু CJP-র প্রতিনিধিরা সেই প্রস্তাবে রাজি হননি।
কেন মন্ত্রক বদলে রাজি হয়নি CJP?
সূত্রের খবর, CJP নেতারা সরকারের প্রতিনিধিদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে আন্দোলনের মূল দাবি ছিল ‘নৈতিক দায় স্বীকার করে মন্ত্রিসভা থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ’। শুধু দপ্তর পরিবর্তন করলে আন্দোলনকারীদের কাছে ভুল বার্তা যাবে এবং এতদিনের আন্দোলনের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে বলেও তাঁরা যুক্তি দেন।
সরকারি সূত্রের মতে, CJP-র আশঙ্কা ছিল যে, শিক্ষা মন্ত্রক থেকে সরিয়ে অন্য দপ্তর দিলে তা কার্যত ‘সমঝোতা’ হিসেবে দেখা হবে এবং দেশজুড়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-যুবকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। তাই সংগঠন নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরেনি।
এক নজরে
- ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে অনড় ছিল CJP
- শিক্ষা মন্ত্রক বদলে অন্য দপ্তর দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল কেন্দ্র
- সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনকারীরা
- CJP-র দাবি ছিল, নৈতিক দায় স্বীকার করে মন্ত্রিসভা থেকেই পদত্যাগ করতে হবে
- দীর্ঘ আলোচনার পর ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইস্তফা দেন
- পরে কেন্দ্র পরীক্ষা সংস্কার, মামলা প্রত্যাহার ও ধৃতদের মুক্তির আশ্বাস দেয়
- এর পরেই CJP আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করে
প্রধানের ইস্তফা
আলোচনায় সমাধানসূত্র না মেলায় পরবর্তীতে পরিস্থিতি বদলে যায়। ধর্মেন্দ্র প্রধান নৈতিক দায় স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ইস্তফা জমা দেন। এর পরে কেন্দ্র সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলা প্রত্যাহার, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন আনার মতো একাধিক আশ্বাস দেয়। এই পদক্ষেপের পরেই CJP তাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করে।উল্লেখ্য, CJP-র নেতৃত্বে NEET-UG প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দেশজুড়ে ছাত্র-যুবদের আন্দোলন গত কয়েক সপ্তাহে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে ওঠে। যন্তর মন্তরে অবস্থান,‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি এবং সোনম ওয়াংচুকের অনশন—সব মিলিয়ে সরকারের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষা সংস্কারের আশ্বাসের পর আন্দোলনের ইতি টানা হয়।
FAQ
১. কেন্দ্র ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নিয়ে কী প্রস্তাব দিয়েছিল?
সরকারি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, কেন্দ্র প্রথমে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শিক্ষা মন্ত্রক থেকে সরিয়ে অন্য কোনও মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব রেখেছিল।
২. CJP কেন সেই প্রস্তাব মানেনি?
CJP-র মতে, আন্দোলনের মূল দাবি ছিল নৈতিক দায় স্বীকার করে ধর্মেন্দ্র প্রধানের সম্পূর্ণ মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ। শুধু দপ্তর বদল করলে সেই দাবি পূরণ হতো না।
৩. CJP-র প্রধান দাবি কী ছিল?
NEET-UG প্রশ্নফাঁসের দায়ে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর পদক্ষেপ ছিল CJP-র অন্যতম প্রধান দাবি।
৪. শেষ পর্যন্ত কী হয়?
আলোচনায় সমঝোতা না হওয়ায় ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর কেন্দ্র একাধিক সংস্কারমূলক আশ্বাস দেয়।
৫. পদত্যাগের পর কেন্দ্র কী কী আশ্বাস দেয়?
আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার, ধৃতদের মুক্তি, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন আনার আশ্বাস দেওয়া হয়।
৬. CJP কখন আন্দোলন প্রত্যাহার করে?
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং সরকারের লিখিত আশ্বাসের পর CJP দীর্ঘদিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করে।
৭. আন্দোলনের সময় কী কী কর্মসূচি হয়েছিল?
যন্তর-মন্তরে দীর্ঘ অবস্থান, ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি, দেশজুড়ে ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভ এবং সোনম ওয়াংচুকের অনশন আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
৮. এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
NEET-UG প্রশ্নফাঁসের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষাক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল।