Thailand Tour Package Scam: থাইল্যান্ড ট্যুরের টোপ দিয়ে পর্যটক অপহরণ, ভয়াবহ কাণ্ড থাইল্যান্ডে

সস্তায় বিদেশ বেড়াতে কে না চায়! বাজেটের মধ্যে বিদেশ ভ্রমণে ভারতীয়দের সবথেকে পছন্দের ডেস্টিনেশন থাইল্যান্ড। সেই থাইল্যান্ডে সস্তায় ‘স্বপ্নের ছুটি’ কাটাতে গিয়ে রীতিমতো ‘নরক দর্শনের’ অভিজ্ঞতা হলো তিন ভারতীয়ের। অভিযোগ, সস্তায় সাত দিনের থাইল্যান্ড ট্যুর প্যাকেজের টোপ দিয়ে তাঁদের পাটায়ায় নিয়ে গিয়ে অপহরণ করে প্রায় এক সপ্তাহ আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। শুধু আটকে রাখাই নয়, তাঁদের নির্মমভাবে অত্যাচার করা হয় বলেও অভিযোগ। এর পরে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণও দাবি করে অভিযুক্তরা।শেষ পর্যন্ত থাই পুলিশের তৎপরতায় তিনজনকেই উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে পাঁচ ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে থাই পুলিশ। তবে তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত পাকিস্তানি সন্দেহভাজনরা এখনও অধরা।
মাত্র ১.৯৯ লক্ষ টাকার ট্যুর প্যাকেজ!
থাই পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে কয়েকজন পাকিস্তানি ও ভারতীয় ব্যক্তি। তাঁরা তিন ভারতীয় তরুণকে সস্তায় থাইল্যান্ড ঘোরানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। সাত দিনের থাইল্যান্ড ভ্রমণের প্যাকেজটির দাম ছিল মাথাপিছু মাত্র ১.৯৯ লক্ষ টাকা।
সস্তায় বিদেশ ভ্রমণের টোপ অতি সহজেই গিলে ফেলে প্রতারণার শিকার হন ওই তিন তরুণ। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁদের বয়স ২৩ থেকে ২৬-এর মধ্যে। ২১ জুলাই ভোরে তাঁরা ভারত থেকে ব্যাঙ্ককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে পৌঁছন। সেখান থেকে ট্যাক্সিতে করে পাটায়ার উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর পরেই বদলে যায় পরিস্থিতি।
অভিযোগ, পাটায়ায় পৌঁছনোর পরে তাঁদের একটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জোর করে আটকে রাখা হয়। সেখানেই শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। পুলিশ জানিয়েছে, অপহরণকারীরা তিন যুবককে একটি ভাড়া করা বাড়িতে বন্দি করে রাখে। তাঁদের বেঁধে রেখে মারধর করা হয়। এমনকী খাবারও দেওয়া হতো না বলে তদন্তে জানা গিয়েছে।
এর পরে পরিবারের সদস্যদের ফোন করতে বাধ্য করা হয় বন্দি তিন যুবককে। ফোনে তাঁদের নিজেদের মুক্তির জন্য বাড়ির লোকের থেকে মোটা টাকা চাওয়ার কথা বলা হয়। অত্যাচার থেকে বাঁচতে অপহরণকারীদের কথামতোই কাজ করে তাঁরা। অভিযুক্তরা মোট ২৪ লক্ষ থাই ভাট, অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬৮-৭০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।
পরিবারের ফোনেই মিলল সূত্র
একজন আক্রান্তের পরিবারের সদস্য বিষয়টি বুঝতে পেরে থাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর পরেই তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তকারীরা অপহরণকারীদের ব্যবহৃত ফোন নম্বর ও অন্যান্য যোগাযোগের মাধ্যম ট্র্যাক করতে শুরু করেন। তাতে জানা যায়, মুক্তিপণ চাইতে যে নম্বরগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল কয়েকটি দুবাইয়ে রেজিস্টার করা ছিল। সেই সূত্র ধরেই তদন্ত এগোয়। সেই নম্বর ট্র্যাক করেই সোমবার পাটায়ার একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই তিন বন্দি ভারতীয় যুবককে উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার ব্যাঙ্ককে বিমানবন্দরের কাছে এই মামলায় অভিযুক্ত সন্দেহে পাঁচ ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা থাইল্যান্ড ছেড়ে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং বিমানে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। ধৃতরা হলো অবতার সিং, জগজিৎ সিং, রামবালক কুমার, সুখবীর সিং এবং কুলরা সিং। তাঁদের বয়স আনুমানিক ২৪ থেকে ৩৮ বছরের মধ্যে।ঘটনায় একটি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের যোগ থাকার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে থাই পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, অপহরণকারীদের দলে পাকিস্তানি নাগরিকরাও ছিল। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে পুলিশের দাবি এই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড দুবাইয়ের এক ব্যক্তি। অর্থাৎ, পাঁচ ভারতীয় গ্রেপ্তার হলেও তদন্ত এখানেই শেষ নয়। এখনও তদন্ত চালাচ্ছে থাই পুলিশ।
পর্যটকদের জন্য বড় সতর্কবার্তা
এই ঘটনায় থাইল্যান্ডে বেড়াতে যাওয়া ভারতীয় পর্যটকদের জন্যও বড় সতর্কবার্তা। সোশ্যাল মিডিয়া বা অচেনা এজেন্টের মাধ্যমে পাওয়া অস্বাভাবিক কম দামের বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজ যাচাই না করে গ্রহণ করলে বিপদে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে প্যাকেজে বিমান, হোটেল, স্থানীয় পরিবহণ এবং অন্যান্য পরিষেবার জন্য বাজারদরের তুলনায় অস্বাভাবিক কম দাম দেখানো হলে তার সত্যতা যাচাই করা জরুরি।