নেপালে দেহ উদ্ধারের সংখ্যা বেড়ে ৭৮১, নিখোঁজ ২৫০২! ৯টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গে এখনও আটকে পাঁচ শতাধিক

Spread the love

সুড়ঙ্গগুলিতে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে নেপালের সেনা। কোনও কোনও ক্ষেত্রে কাদামাটি এবং ধ্বংসস্তূপ এতটাই বেশি জমে গিয়েছে যে থার্মাল ড্রোন দিয়েও কিছু শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

চার দিন অতিক্রান্ত হতে চলল। নেপালে কোন সুড়ঙ্গের ভিতরে কত জন আটকে রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আনুমানিক ৯০০ শ্রমিক আটকে পড়েন নেপালের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে। তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগকেই এখনও উদ্ধার করা যায়নি। যত সময় এগোচ্ছে, তাঁদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা তত ক্ষীণ হচ্ছে। রবিবার বিকেল পর্যন্ত নেপালের বিপর্যস্ত এলাকাগুলি থেকে মোট ৭৮১ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ ২৫০২ জন।

নেপালে ত্রিশূলী নদীর উপর বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। রাসুয়া এবং নুয়াকোট জেলা মিলিয়ে নদীতে মোট ন’টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। তার মধ্যে পাঁচটি এখনও নির্মীয়মাণ। হড়পা বানের জেরে এই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির সুড়ঙ্গমুখগুলি চাপা পড়ে যায় কাদামাটির স্তূপের নীচে। সুড়ঙ্গগুলিতে আটকা পড়ে যান প্রায় ৯০০ শ্রমিক। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে সাড়ে তিনশোর কিছু বেশি শ্রমিককে উদ্ধার করা গেলেও বাকিদের কোনও সন্ধান মেলেনি। অন্তত ৫৩৭ জন শ্রমিকের কোনও খবর মেলেনি।

সুড়ঙ্গগুলিতে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে নেপালের সেনা। কোনও কোনও ক্ষেত্রে কাদামাটি এবং ধ্বংসস্তূপ এতটাই বেশি জমে গিয়েছে যে থার্মাল ড্রোন দিয়েও কিছু শনাক্ত করা যাচ্ছে না। বিপর্যয়ের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে বৃহস্পতিবার থেকেই সুড়ঙ্গগুলিতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে নেপালের সেনা এবং উদ্ধারকারী দলগুলি।

নেপালের নুয়াকোটে আপার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সুড়ঙ্গে প্রবেশের কোনও রাস্তা পাওয়া যাচ্ছিল না। সবই চাপা পড়ে ছিল কাদামাটির স্তূপের নীচে। বিপর্যয়ের পরে সেখানে অনেক শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে কত জন সেখানে আটকে রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। নেপাল সেনার অনুমান, ভিতরে অন্তত ৩৫ জন আটকা পড়ে থাকতে পারেন। তবে এই সংখ্যা প্রায় ২০০-র আশপাশে হতে পারে বলে অনুমান করছে নেপাল পুলিশ। ড্রিল মেশিন, মাটি কাটার যন্ত্র এবং হাইড্রোলিক কাটার দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অবশেষে রবিবার বিকেলে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ খুঁজে পান উদ্ধারকারীরা। সুড়ঙ্গের ভিতরেও প্রবেশ করেন তাঁরা। তবে ডাকাডাকির পরেও কারও সাড়াশব্দ মেলেনি।

নেপালি সেনার মুখপাত্র রাজারাম বাসনেট বলেন, “একটি জায়গায় গর্ত খোঁড়ার পর আমরা প্রায় সাত মিটার ব্যাসের একটি সুড়ঙ্গ দেখতে পাই। সেটির ভিতরে জলের স্তর অনেকটা উপর পর্যন্ত উঠে এসেছিল।”

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের দফতর জানাচ্ছে, সুড়ঙ্গের উপরের অংশ ড্রিল করে যে প্রবেশপথ পাওয়া গিয়েছে, সেখান দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করেছিলেন উদ্ধারকারীরা। তাঁরা ডাকাডাকি করলেও ভিতর থেকে কোনও সাড়াশব্দ পাননি। আপাতত ওই সুড়ঙ্গমুখকে আরও চওড়া করার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে বলেন্দ্রের দফতর।

উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, রাসুয়া জেলায় আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হয়ে রয়েছে। শুধুমাত্র সেখানেই প্রায় ৩০০ শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *